কন্যার পরিবর্তে মৃত ছেলের লাশ প্রদানের ঘটনায় তদন্ত কমিটি

চট্টগ্রামে নবজাতক কন্যাকে ছেলে শিশু হিসেবে লাশ প্রদানের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বৃহস্পতিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান।

তিনি জানান, বেসরকারি ক্লিনিক পরিদর্শন কমিটির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এএম মুজিবুল হক খানের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে উল্লেখ করে সিভিল সার্জন জানান, প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তদন্ত কমিটিতে ২৫০ শয্যার আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথকে আহ্বায়ক ও একই হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শাহ আলমকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এ ছাড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তা শাহেদুল ইসলামকে সদস্য করা হয়েছে।

গত শনিবার নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার ‘চাইল্ড কেয়ার ক্লিনিক- এ শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিলতায় আক্রান্ত নবজাতক কন্যাকে ভর্তি করেন নোয়াখালীর মাইজদী এলাকার রোকসানা আকতার।

মঙ্গলবার শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করে প্যাকেটে করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তুলে দেয় পরিবারের হাতে। বাড়িতে নিয়ে দাফনের জন্য গোসল করাতে গিয়ে পরিবারের লোকজন দেখেন- নবজাতক ছেলে।

পরিবারের লোকজন ফিরে আসেন ক্লিনিকে। প্রথমে অস্বীকার করে কর্তৃপক্ষ। রাতভর দেন-দরবারের পর বুধবার সকালে জীবন্ত কন্যাশিশুকে ফেরত দিয়েছে তারা।

অসুস্থ কন্যাশিশুটিকে এখন নগরীর আরেকটি বেসরকারি ‘রয়েল হাসপাতালে’ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সেখানে আইসিইউতে নবজাতককে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন ডা. বিধান রায় চৌধুরী।

তিনি বলেন, নবজাতকটি গুরুতর অসুস্থ। সুস্থ হতে সময় লাগবে। জন্মের পর ব্রেনে অক্সিজেন পৌঁছেনি। খিঁচুনি ও ইনফেকশন আছে। আমরা মেডিকেল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা দেয়ার চিন্তা করছি।

রোকসানা আকতার বলেন, ১৪ এপ্রিল আমি কন্যা সন্তানের মা হই। জন্মের পরপরই বাচ্চাটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। তাকে প্রথমে নোয়াখালীর মা-মণি হাসপাতালে ভর্তি করাই। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করে। বাচ্চাটিকে প্রথমে চমেক হাসপাতালে নেই। পরে চাইল্ড কেয়ার ক্লিনিকে ভর্তি করাই।

রোকসানা বলেন, বাচ্চাটিকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে তাকে মৃত ঘোষণা করে চাইল্ড কেয়ার কর্তৃপক্ষ। প্যাকেট করে আমার হাতে তুলে দেয়। মাইজদীতে গ্রামের বাড়ি নিয়ে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম আমরা।

গোসল দেয়ার সময় দেখতে পাই- এটা একটা ছেলের লাশ। তার মানে আমার মেয়েকে তারা দেয়নি। এতে হতবাক হয়ে আমরা চট্টগ্রামে ফিরে আসি। ক্লিনিকে গেলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে রাতে পাঁচলাইশ থানায় অভিযোগ করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *