টাকার অংকে কি আর সব ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যায়!

দুই বাসের চাপায় হাত হারিয়ে নিহত কলেজ ছাত্র রাজিবের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনকে এই টাকা দিতে হবে। সকালে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদেশে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রাজিবের স্বজনরা এমন ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে দাবি জানান। আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন পরিবহন পক্ষের আইনজীবীরা।

রাজিবের খালা বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ পেয়ে খুশি। কিন্তু রাজিবের মত আর যেনো এমন না হয় তেমন আইন চাই।’

এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও ভাগ্নেকে হারানোর বেদনা স্পষ্ট ছিলো রাজিবের খালার কণ্ঠে। হাইকোর্টে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণার পর এমনভাবে যেন আর কোন পরিবারকে ক্যামেরার সামনে দাড়াতে না হয় সে আকুতিও ছিলো রাজিবের খালার।

একমাত্র অভিভাবক ভাইয়ের ঘাতকদের শাস্তি যেন দেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে সে দাবি ছিলো রাজিবের ছোট ভাইয়ের।

রাজিবের ছোট ভাই বলেন, ‘আমার মা-বাবা যখন হারিয়ে যায় আমার ভাই আমার বাবা-মা হয়ে যায়। সরকার যেনো এর জন্য আরো কঠোর শাস্তি করেন।’

গত তেসরা এপ্রিল রাজধানীর কারওরানবাজারে বিআরটিসির বাস আর স্বজন বাসের প্রতিযোগিতার সময় হাত হারিয়ে ১৭ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেলে মারা যান তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজিব।

রাজিবের পরিবারকে কেনো এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে গত চৌঠা এপ্রিল রুল জারির ধারাবাহিকতায় সোমবার আদেশের দিন ধার্য ছিলো। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে উচ্চ আদালত সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে রাজিবের পরিবারকে এক কোটি টাকা দেয়ার আদেশ দেন জানান রিটকারী আইনজীবী ব্যারিষ্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

তবে বিদ্যমান আইনকে পাশ কাটিয়ে এ রায় দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন পরিবহন মালিক পক্ষের বিআরটিসি আইনজীবী ব্যারিস্টার মুনিরুজ্জামান। বাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

রাজিবের রায়কে আদালত যুগান্তকারি আখ্যায়িত করে সড়কে বেপরোয়া গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *