বুড়া হলে কি হবে অভ্যাস ছাড়েনি কিন্তু… (ভিডিও)

বুড়া হলে কি হবে অভ্যাস ছাড়েনি কিন্তু… (ভিডিও)

অসমবয়সীর প্রেমের ফাঁদে কিশোরী তারপরঃ আজকাল ইন্টারনেটের যুগে আর আহাতে হাতে স্মাট ফোন থাকায় ছেলে মেয়েরা অনেক আগে থেকেই অনেক কিছু শিখে যায়। বলা যায় অকাপক্ক । ধন শিল্পী (ছদ্দনাম ), ১২ বছরের মেয়েটি রাজধানীর ভাল এক্তা নামী দামী স্কুলের ছাত্রী। মা-বাবা দুজনেই চাকরি করেন। বাড়িতে দাদির কাছে থাকেন প্রায় সময়। বেশ কিছুদিন সে প্রায় বেশি সময় ধরে মনমরা হয়ে বসে থাকে। আবার অস্বাভাবিক আচরণ করছে মাঝে মাঝেই। এলাকার লোকেও মেয়েটির নামে বলছে আজে বাঝে কথা আসলে ব্যাপার কি ? কী হয়েছে শিল্পীর?

কী হয়েছে— কী থেকে এই পরিবর্তন? জানতে চাইতেই মা জানান, সবার অজান্তে গত ছ’মাস ধরে পাড়ার একটি ফুচকাওয়ালার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে মেয়েটি। বাচ্চা মেয়েটি কিছু না বুঝেই প্রেমে পড়ে যায়। প্রায়ই স্কুলে ফাকি দিয়ে ফুচকাওয়ালার সঙ্গে সময় কাটাতে থাকে। দুপুরে দাদি যখন ঘুমিয়ে পড়েন তখন সে বাড়িতে ডেকে আনত তাকে। এভাবে শারীরিক ঘনিষ্ঠতাও তৈরি হয় এই ছোট বয়সেই। শেষে যখন আলমারিতে রাখা টাকার পরিমাণ কমতে থাকে তখন টনক নড়ে মা-বাবার। পরে বকুনি-মারধর করার পর মেয়েটি সব কথা বলে দেয় মা-বাবাকে ।

এমনও সময়হয়ত পরিচিত কেউ দেখে বাড়ির লোককে জানায় তাদের অবর্তমানে রোজ দুপুরে মেয়েটির সঙ্গে বাড়িতে সময় কাটিয়ে যায় তার প্রেমিক। এসব জানার পর চাকরি ছেড়ে দেন মা। আর কিছুদিনের মধ্যেই মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। মাথা ঘোরা-বমিভাব দেখে কোন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান মা । ডাক্তার জানান মেয়েটি গর্ভবতী। মেয়ের abortion-এর পর তাকে কোন আত্বিয়ের বাড়িতে রাখা হয় । বাড়ি থেকে বেরোনো বন্ধ করে দেওয়া হয়কেউ ভালো করে কথা বলত না শিল্পীর সঙ্গে। স্কুলে যাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে মেয়েটি ডুবে যেতে থাকে গভীর অবসাদে।

কেন হয়েছে— অভিভাবকেরা কোনওদিনই মেয়ের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন না। সারাক্ষণ নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। ১২ বছরের একটি মেয়ের কি সারাক্ষণ রতার দাদির বা পরিবারের অন্য লোকদের সাথে সময় কাটাতে ভালো লাগে? তাই এভাবেই বিনোদনের উপকরণ জোগাড় করে নিয়েছিল মেয়েটি।

সমাধান— প্রথমেই মা-বাবাকে বলি, এভাবে মারধর, খারাপ ব্যবহার করে কাউকে শোধরানো যায় না। তাঁরা শুরু থেকেই খারাপ ব্যবহার না করলে মেয়ে হয়ত এই পথে পা বাড়াত না। তাই সবার আগে নিজের ছেলে মেয়েকে বুঝুন। তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করুন। মানুষ মাত্রেই ভুল করে। তার জন্য সংশোধনের উপায়ও আছে। ক্রমাগত খারাপ ঘটনার মুখোমুখি হতে হতে মেয়েটির আত্মবিশ্বাস তলানিতে এসে ঠেকেছিল। তাই কোনও ওষুধ নয়, টানা কাউন্সেলিং করে আজ অনেক ভালো আছে শিল্পী। তবে হয়ত বাবা মা সচেতন হলে এমন হত না শিল্পির জীবন।

মা-বাবাদের কাছে বিশেষ অনুরোধ, সন্তান টিন এইজে পা দিলেই বন্ধু হয়ে যান। মারধর, কড়া শাসন নয়, ভালো ব্যবহারে জানতে চেষ্টা করুন, ওরা কী ভাবছে।তাহলেই এই মারাত্মক অঘটন আর ঘটবে না|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *