দেখুন মানুষ কতটা খারাপ হতে পারে ! (ভিডিও)

দেখুন মানুষ কতটা খারাপ হতে পারে ! (ভিডিও)

ময়মনসিংহের ত্রিশাল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাত্র নাকি সন্ত্রাসী এ প্রশ্ন ময়মনসিংহ বাসীর মনে। ত্রিশালে সাধারণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকদের সাথে সংঘর্ষে দুই-দফা ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে।

এ ঘটনা সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভাংচুর করে।

জানা যায়, গতকাল রবিবার বিকেলে ময়মনসিংহের শিকারিকান্দা বেলতলি ব্রীজের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি বাসকে পিছন থেকে অপর একটি ট্রাক ধাক্কা দেয়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে ও বাস চালক-শ্রমিকসহ স্থানীয়দের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয় কমপক্ষে ৩০ জন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি বাস ভাংচুর করে স্থানীয়রা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক’শ শিক্ষার্থী বেলতলি ও ত্রিশাল বাইপাস জিরো পয়েন্টে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ করে কমপক্ষে ৪৫টি বাস ভাংচুর করে।

পরে আজ সোমবার সকাল ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বেলতলি নামক স্থানে সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে রাখে এবং গাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর চালায় শিক্ষার্থীরা। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের প্রায় ৮কিলোমিটার রাস্তার দু-পাশে শুকাতে দেয়া কৃষকের ধান পুড়িয়ে ছাই করে শিক্ষার্থী নামক এই সন্ত্রাসীরা।

এ ঘটনায় আজ সোমরার সকালে সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে, এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজ এর প্রতিনিধি শাহ আলম উজ্জ্বল এবং যমুনা টিভির ক্যামেরাম্যান দেলোয়ার হোসেনকে বেধড়ক মারপিঠ করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

রবিবার ও সোমবার দুইদিনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে ৪৮টি বাস, ট্রাক, পিক আপ-ভ্যান ও অটোরিকশা ভাংচুর এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

আহত সাংবাদিক শাহ আলম উজ্জ্বল জানান, গতকাল তোরা (সাংবাদিকরা) আমাদের বিপক্ষে নিউজ করে আজ আবার এসছিস, এই কথা বলে আমাকে রড দিয়ে মারতে মারতে বলতে থাকে আমাদের পক্ষে নিউজ না করলে তোদেরকে ছাড়ব না। পরে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় ছাত্রদের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসি।

সাংবাদিকদের উপর হামলা ও ক্যামেরা ছিনতাই এর ঘটনার প্রতিবাদে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সামনে বেলা সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা। মানববন্ধনে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ, ময়মনসিংহ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউল করিম খোকন, সাধারণ সম্পাদক মীর গোলাম মোস্তফা, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন…

ময়মনসিংহ রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি মোশাররফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আইয়ুব আলী, সাধারণ সম্পাদক মতিউল আলম, ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি খোরশেদুল আলম মুজিব ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নোমান বক্তব্য রাখেন। বক্তারা ঘটনার সাথে জড়িত ছাত্র নামক সন্ত্রাসীদের বহিস্কার করার দাবী জানান।

ময়মনসিংহ টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত রায় বলেন, আমরা সাংবাদিকদের মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছি সন্ধ্যায় মামলা দায়ের করব। ২৪ ঘন্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের উপর আঘাত করা অত্যান্ত দু:খজনক। ভাইস চ্যান্সেলরকে নিয়ে বসে সাংবাদিকদের সাথে বিষয়টি দ্রুতই মীমাংসা করার কথা জানান তিনি।

জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের উপর হামলার বিষয়টি শুনে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে গিয়েছি। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সাথে এ নিয়ে কথাও বলেছি। তারা মামলা করতে চাইলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *