লোক দেখানো ইবাদতের ভ’য়ঙ্কর পরিণতি

যে কোনো আমল আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার জন্য রিয়া বা লৌকিকতামুক্ত থাকতে হবে। কোরআন হাদিসের নির্দেশিত নিয়মে হতে হবে। মানুষকে দেখানো বা অন্য কোনো দুনিয়াবি স্বার্থের জন্য হতে পারবে না। কেননা যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য ইবাদত করবে, সে ছোট শিরক (অংশীদারি) করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবে। তার সব আমল বরবাদ হয়ে যাবে। তাই সেটা বড় আমল হোক বা ছোট আমল হোক। যেমন লোক দেখানো নামাজ, লোক দেখানো দান।

কোরআনে আল্লাহ এ সম্পর্কে বলেন, নিশ্চয় মুনাফিকরা আল্লাহর সঙ্গে প্রতারণা করে। আর তিনি তাদের সাথে (সেটার জবাবে) কৌশল অবলম্বনকারী। আর যখন তারা নামাজে দাঁড়ায় তখন আলস্যভরে দাঁড়ায়। তারা লোকদের দেখায় যে তারা নামাজ আদায় করছে; কিন্তু আল্লাহকে তারা কমই স্মরণ করে। – সুরা আন নিসা, আয়াত ১৪২।

আমাদের সমাজে অনেক লোক এমন আছে যারা লোক দেখানোর জন্য আমল বা কাজ করে। তার কথা সবার মুখে ছড়িয়ে পড়ুক এ প্রত্যাশা করে। লোকেরা শুনে বাহবা দিক এ কামনা করে। বাস্তবে যদি কেউ এসকল নিয়তে আমল বা কাজ করে তবে সে শিরক তথা আল্লাহর সাথে অংশীদারিত্বে নিপতিত হবে। এরূপ বাসনাকারী সম্পর্কে হাদিসে কঠোর ভাষা উচ্চারণ করা হয়েছে।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষকে শুনানোর জন্য কাজ করে আল্লাহ তার বদলে তাকে (কিয়ামতের দিন) শুনিয়ে দিবেন। আর যে লোক দেখানোর জন্য কাজ করে আল্লাহ তার বদলে তাকে (কিয়ামতের দিন) দেখিয়ে দিবেন। – বুখারি,হাদিস নং ৬৪৯৯।

অর্থাৎ তিনি এসব লোককে কিয়ামতের দিন মানুষের সামনে অপমানিত করবেন এবং কঠোর শাস্তি দিবেন। তার কোন আমল বা কাজ কবুল করবেন না।

এমনকি যদি কেউ আল্লাহ ও মানুষ উভয়ের সন্তুষ্টিকল্পে ইবাদত করে তার আমলও বরবাদ হয়ে যাবে। এ সম্পর্কে হাদিসে কুদসীতে এসেছে,আল্লাহ বলেন, আমি অংশীবাদীতা (শিরক) থেকে সকল অংশীদারের তুলনায় বেশি মুখাপেক্ষীহীন। যে কেউ কোনো আমল করে এবং তাতে অন্য কাউকে আমার সাথে শরীক করে, আমি তাকে ও তার আমল উভয়কেই বর্জন করি। – মুসলিম, হাদিস নং ২৯৮৫।

তবে যদি কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে কোনো আমল শুরু করার পর তার মধ্যে লোক দেখানো ভাব জাগ্রত হয় এবং সে তা ঘৃণা করে, সেখান থেকে সরে আসতে চেষ্টা করে, তাহলে তার ঐ আমল পরিশুদ্ধ হবে।

কিন্তু যদি সে তা না করে; বরং লোক দেখানো ভাব মনে উদয় হওয়ার পর প্রশান্তি ও আনন্দ অনুভব করে, তাহলে অধিকাংশ আলেমের মতে তার ঐ সব আমল বাতিল হয়ে যাবে। আল্লাহ সবাইকে এর থেকে হেফাজত করুক। আমিন।

লেখক : মুহাদ্দিস, খাদিমুল ইসলাম মাদ্রাসা, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *